অপরাধজাতীয়

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক অপসারণের দাবি ছাত্রনেতা ইমনের

ডা. সেখ ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে জুলাই আগস্টের বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে চিকিৎসকদের সংগঠিত করাসহ নানা অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে জুলাই আগস্টের বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে চিকিৎসকদের সংগঠিত করাসহ নানা অভিযোগ এনে তিনদিনের মধ্যে তাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সমন্বয়ক ইমন মোহাম্মদ।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে সদ্য যোগদান করা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর ডা. সেখ ফজলে রাব্বী। গত ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক থাকাকালীন শান্তিকামী চিকিৎসক সমাবেশের নাম দিয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে বিএনপি জামায়াত শিবিরের আন্দোলন বলে অপপ্রচার চালান তিনি। সে সময় জুলাই আগস্টের বিপ্লবীদের নৈরাজ্যকারী ও সন্ত্রাসী বলতেও তিনি দ্বিধা করেননি। মজার বিষয় হচ্ছে, স্বাস্থ্য প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের ম্যানেজ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। আওয়ামী সরকারের শতভাগ সুবিধাভোগী ডা. সেখ ফজলে রাব্বী চলতি বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান।

কাকতলীয় বিষয় হচ্ছে, গত বছরের ৩ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসকদের সংগঠিত করে শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার চলতি বছরের ৩ আগস্ট ঠিক এক বছরের মাথায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় আয়োজিত জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বর্ণচোরা ডা. রাব্বীর এমন পল্টি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।

ফেসবুকের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডা. সেখ ফজলে রাব্বী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের কেমন সুবিধাভোগী ছিলেন, একবার মিলিয়ে নিই। তিনি ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ডা. রাব্বী চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন পদে নিযুক্ত হন। পরে ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্তি হন। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক পদে নিযুক্ত হন। এতে প্রমাণিত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সদস্য। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৩০তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি। মেডিকেলে তার ব্যাচমেট বন্ধু আওয়ামী লীগের বিতর্কিত স্বাচিপ ও বিএমএ চিকিৎসক নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। তার প্রভাব প্রতিপত্তি ব্যবহার করে করেছেন সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি।

এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক থাকাকালীন যন্ত্রপাতি কেনার নামে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার ভুয়া বিল তৈরি করেন তিনি। বিষয়টি দুদক পর্যন্ত গড়ায়। তবে কোনো এক অজানা ক্ষমতাবলে গত বছরের অক্টোবরে দুদক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। অথচ এসব ভুয়া বিলে তার স্বাক্ষর ছিল।

এদিকে চট্টগ্রামের সচেতন মহল মনে করছে, আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ডা. সেখ ফজলে রাব্বী চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়া জুলাই আগস্টের বিপ্লবের সাথে প্রতারণার সামীল। তার তাকে এই পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। আগামী ৩ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হলো উচ্চ মহলের নজরদারির জন্য। যেকোনো সময় ডাক আসতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Back to top button