চট্টগ্রাম

অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধার পাশে জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ইউনুচের পাশে দাঁড়িয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় মানবিকতার আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।

গত ২০ নভেম্বর দক্ষিণ বরুমছড়ায় আগুনে বীর মুক্তিযোদ্ধার ছয় রুমের টিনশেড বাড়ি, রান্নাঘর, মোটরসাইকেল ও সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি এবং তার ১১ সদস্যের পরিবার। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোকজনিত কারণে প্যারালাইজড, নিজেও নানা বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি পড়ে যায় চরম দুর্দশায়।

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ বান্ডেল টিন, ২০ হাজার টাকা, ২৫ কেজি চাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করেন।

কিন্তু এখানেই থেমে যাননি ‘মানুষের ডিসি’ জাহিদুল ইসলাম। সরকারি ব্যস্ততা শেষে নিজ দপ্তরে ডেকে নেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে রাকিবকে। রাকিব জানান, ঘর পুনর্নির্মাণে আরও অন্তত ৭৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। বিষয়টি শোনার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ৭৫ হাজার টাকা অনুদানের চেক প্রদান করেন। একই সঙ্গে ইউএনও ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিয়মিত খোঁজ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

চেক হাতে পেয়ে আবেগে কাঁদতে কাঁদতেই রাকিব বলেন, “ডিসি স্যার সত্যিই অসাধারণ মানুষ। আমরা ভাবতেই পারিনি এত দ্রুত তিনি সাহায্য করবেন। আল্লাহ উনাকে আরও উন্নতি দান করুন।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুচ কৃতজ্ঞতাভরে বলেন, “ডিসি সাহেব আমার মাথার হুর। আমার বিপদের সময় যে সহায়তা দিয়েছেন, সারাজীবন মনে রাখব।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম দায়িত্বের শুরুতেই মানবিকতার যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি তার দ্রুত সাড়া সেটিরই জ্বলন্ত প্রমাণ।

অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম যেন পেয়েছে একজন প্রকৃত ‘মানুষের ডিসি’।

সম্পর্কিত সংবাদ

Back to top button